প্রাইস অ্যাকশান ট্রেডিং শিখুন পর্ব ৩

 
M0XomqS.png
ট্রেডাররা প্রায় খুজতে থাকে এমন একটি প্রাইস অ্যাকশান সিগন্যাল বা ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন যা তাদেরকে রাতারাতি ঐশ্বর্য এনে দেব,তারা ফেল রিয়েলাইজ তখনই করবে যখন তারা প্রাইস অ্যাকশান ট্রেড করার সময় KEY লেভেল খুঁজে পাবেনা সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্সে।যদি কোন ট্রেডার চার্টে সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স হতে KEY লেভেল নির্ণয় না করতে পারে, তবে সে যত কিছু করেছে ট্রেড করার জন্য তার সব কিছুই বৃথা হয়ে যাবে।
অনেক প্রাইস অ্যাকশান শিক্ষক তাদের ছাত্রদেরকে শিক্ষা দেয় কিভাবে ধরতে হবে সব থকে বেস্ট প্রাইস অ্যাকশান এন্ট্রি ক্যান্ডেলটিকে।এর মানে এই দাঁড়ালো এই ধরণের শিক্ষকরা তাদের ছাত্রদেরকে সম্পূর্ণ প্রাইস অ্যাকশান স্টোরি না শিখায় না, শুধুমাত্র  চার্টের শেষ ক্যান্ডেলটি নির্ণয় করতে শিখায়।
উধাহরন; আমরা একটি এন্ট্রি ক্যান্ডেল হিসাবে পিনবারকে নিবো। এই পিনবারটি শক্তিশালী প্রাইস অ্যাকশান রিভারসাল সিগন্যাল হতে পারে তখনই,যদি তাকে প্যালেস করা হয় রাইট প্রাইস অ্যাকশান স্টোরিতে।যখন এই পিনবারকে আমরা প্যালেস করবো ভুল স্টোরিতে তবে এটি আপনার ট্রেডের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে সে তার কাছাকাছি সাপোর্ট বা রেজিস্টান্সের দিকে যাওয়া শুরু করবে।

পিনবার রাইট এরিয়া

পিনবার রং এরিয়া
প্রাইস অ্যাকশান স্টোরি পড়ুন

সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স তৈরি করতে পারে প্রাইস অ্যাকশান স্টোরিকে। প্রত্যেকটি চার্ট দেখলে চার্টগুলো আমাদেরকে কিছু বলতে চায়। চার্টগুলো কি বলতে চায় তা আমাদেরকে শিখতে হবে,একজন ট্রেডার হিসাবে এটিই আমাদের চাকুরী।চার্ট থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি।
যেমন;
  • -সেখানে কি কোন সাপোর্ট বা রেজিস্টান্স জোন আছে?
  •  
  • -প্রাইস কি কোন কী এরিয়া ব্রেক করার জন্য যুদ্ধ করছে?
  •  
  • -প্রাইস কি কোন ফ্রেস হাই বা লো তৈরি করছে?
  •  
  • -প্রাইস কি রিটাচ করতেছে কোন এরিয়াতে বা ইন্টারেস্টেড জায়গায় ?
  •  
  • -প্রাইস কি কোন রিভারসাল সিগন্যাল তৈরি করতেছে?
  •  
  • -প্রাইস কি কোন কন্টিনিউ সিগন্যাল তৈরি করতেছে?
  •  
  • -প্রাইস কি কোন রেঞ্জ বা বক্সে আটকে আছে?
  •  
  • -এই মাত্র রেঞ্জ বা বক্স এরিয়া থেকে বের হয় প্রাইস কি কোন বিস্ফোরণ ঘটাতে চাচ্ছে উপরে বা নিচের দিকে? 
যে কোন ট্রেড করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হল প্রাইস অ্যাকশান স্টোরি। এন্ট্রি হচ্ছে শেষ ক্যান্ডেল যেটি আমাদের কনফার্ম ক্যান্ডেল হিসাবে কাজ করে থাকে যে কোন ট্রেডে। যদি কোন ট্রেডার ট্রেড করে প্রাইস অ্যাকশান স্টোরি সম্বন্ধে কোন নলেজ ছারাই তবে সে তার প্রফিট করার সম্ভাবনাকে নিজের হাতে বাঁধা দিচ্ছে।
উধাহরন; একটি পিনবার রিজেক্ট করলো কী রেজিস্টান্স লেভেলকে যেটি আছে ট্রেন্ডের সাথে তবে সেই ট্রেডটির জিতার সম্ভাবনা খুবই বেশী থাকে। অন্য দিকে একজন ট্রেডার একটি পিনবারে ট্রেড করলো যে কিনা প্রাইস অ্যাকশান স্টোরি কি বলে মার্কেটে এর কিছুই জানেনা।
আশা করি বুঝে গেছেন তার ট্রেডের কি অবস্থা হতে পারে।
উইনিং ট্রেড তৈরি করা ও কেক বানানো

উইনিং ট্রেড তৈরি করার জন্য অনেক কিছু যোগ করতে হয় এবং অনেক পরিমানে স্তর থাকে এবং সব গুলোকে একসাথে মেশাতে হয়, ঠিক কেক বানানোর মত। যদি আপনি কেক তৈরি করতে যান তবে আপনাকে কেক বানানোর সকল উপাদানকে মিশাতে হবে একসাথে যা আপনার কেকটিকে অনেক সুন্দর এবং সুস্বাদু বানিয়ে দিবে। ঠিক একইভাবে ট্রেডিং এর সময় প্রাইস অ্যাকশান সিগন্যাল কাজ করে প্রাইস অ্যাকশান স্টোরির সাথে।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর যোগ করা এবং মিক্স করা অনেক কোয়ালিটির উপাদান যা আপনার প্রডাক্টকে বেস্ট প্রডাক্ট হতে সাহায্য করবে। যদি আপনি ট্রেড করেন শুধুমাত্র এন্ট্রি ক্যান্ডেল নিয়ে তবে আপনার ট্রেডটি উইনিং হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায় এবং সাথে এটি নিচু মানের ট্রেড হিসাবে গন্য হয়ে থাকে।অন্য দিকে এন্ট্রি ক্যান্ডেলটি যদি থাকে শক্তিশালী ট্রেন্ডের মধ্য,কী সাপোর্ট বা রেজিস্টান্সের মধ্যে, কী সুইং লেভেলে এবং ফিবোনাসি লেভেলের সাথে তবে আপনি পাচ্ছেন অনেক বেটার প্রাইস অ্যাকশান স্টোরি এবং অনেক বেশী সম্ভাবনাময় উইন হওয়ার এমন একটি ট্রেড।
গুরুত্বপূর্ণ নোট;  সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স মানে সোজা কোন লাইন নয়, তারা হতে পারে লেভেল,এরিয়া বা জোন।
সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স মার্ক করা- টিউটোরিয়াল
ট্রেডিং এর জন্য সহজ ও সাধারণভাবে সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স মার্ক করাই হল সব কিছুর থেকে বেস্ট। ফরেক্স ট্রেডিং আসলে অনেকভাবেই করা যায়। কিন্তু আমার ট্রেডিং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আমি অনুভব করেছি যে, সহজ ও সাধারণভাবে ট্রেড করাই হল সত্যিকার অর্থে বেস্ট।
ডেইলি চার্ট

আমার সমস্ত চার্ট সেটআপ ডেইলি চার্টে এনালাইসিস করা । এই কারণে খুবী সহজে ডেইলি চার্ট হতে সরাসরি ছোট ছোট টাইম ফ্রেম
৪ঘণ্টা,৮ঘন্টা,১২ঘন্টা বা অন্যন্য টাইম ফ্রেম গুলোতে আমার ডেইলি চার্টে মার্ক করা সাপোর্ট ও রেসিস্টান্স লেভেল গুলোতে ট্রেড করে থাকি।
আমি সাধারণত রবিবার রাতে আমার চার্ট গুলোতে সাপোর্ট এবং রেসিস্টান্স লেভেল মার্ক করে ত্থাকি ডেইলি চার্টে ।
আমি প্রায় ৪০টির বেশি পেয়ার দেখে থাকি, তার মধ্যে  ফরেক্স ছাড়াও কিছু ইন্ডিক পেয়ার আছে । 
এই লেভেল গুলো মার্ক করার পিছনে অনেক কারণ  থাকতে পারে, যেমন; প্রাইস লেভেল থেকে মুভ ব্যাক করতে পারে, ব্রেকআউট করতে পারে, নতুন ট্রেন্ড গঠন করতে পারে, ইত্যাদি ইত্যাদি যে কোন ট্রাডিং এর সুযোগ পাওয়ার আশায় মূলত লেভেল গুলো তৈরি করা ।
গুরুত্বপূর্ণ কথা;  কথা গুলো আমাকে নিয়ে বললেও মুল উদ্দেশ্য ছিল আপনাদেরকে বুঝানো।
শুধুমাত্র ২টি লেভেল
আমি একটি চার্টে শুধুমাত্র ২টি সাপোর্ট ও রেজিস্টান্স লেভেল আঁকি। আমি বুঝিনা কেন মানুষ এলোমেলোভাবে তার চার্টে ২০টি সাপোর্ট ও রেজিস্টান্স লেভেল আঁকছে, তাও আবার যেখানে ইচ্ছা সেখানে। সাধারণ নিয়ম হল; আমি শুধুমাত্র প্রাইসের উপরে একটি এবং নিচে আরেকটি লাইন আঁকবো, যদি তাদের মধ্যে যে কোন একটি ব্রেক করে, তবে আমি আমার চাহিদা অনুযায়ী নতুন লেভেল আঁকবো। খুবই সহজ ও সাধারণভাবে করতে হবে, কোন প্রয়োজন নেই আবর্জনা দিয়ে আপনার সম্পূর্ণ চার্ট ভর্তি করে ফেলার।
এতে আপনি প্রাইস অ্যাকশান এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলোকে ঢেকে রাকলেন নিজের অজান্তেই। 
ডেইলি মার্ক করা লেভেল থেকে ইন্টার-ডে সিগন্যালে ট্রেড করুন 
ছোট ছোট টাইমফ্রেমে যারা ট্রেড করে থাকে তারা বেশী সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স লেভেল ব্যাবহার করে থাকে। এই কারনে গুরুত্বপূর্ণ লেভেল গুলোকে না দেখে কম গুরুত্বপূর্ণ লেভেলকে তারা গুরুত্ব দিয়ে থাকে।এই কারনে সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স লেভেল মার্ক করতে হবে ডেইলি চার্টে এবং পরে সেই লেভেল গুলোতে ট্রেড করতে হবে। মার্ক করা লেভেল গুলো যে কোন টাইমফ্রেমে চার্টের গ্রেট এরিয়াতে ট্রেড সব সময় ট্রেড করতে সাহায্য করবে।
মনে করেন আপনি ৪ঘণ্টার টাইমফ্রেমে ট্রেড করে করে থাকেন, তাহলে আপনাকে ডেইলি চার্টে প্রথমত নির্ণয় করতে হবে কী লেভেল এবং পরে আপনি আবার ৪ঘণ্টার চার্টে ইন্টার-ডে চার্টে চলে আসবেন সেই লেভেল গুলোতে প্রাইস অ্যাকশান সিগন্যাল ধরার জন্য। আপনি ডেইলি চার্টে যে দুটি কী লেভেল মার্ক করেছেন তার মাঝখানে ট্রেড করবেন না। কারন মাঝখানটাকে বলে নো ম্যানস ল্যান্ড বলে, ইন্টার-ডে চার্টে নো ম্যানস ল্যান্ডে ট্রেড করা খুবই বিপদজনক হতে পারে ইন্টার-ডে ট্রেড করলে।
তাই শুধুমাত্র আপনি ইন্টার-ডে ট্রেড করবেন আপনার মার্ক করা ডেইলি এরিয়াতে।
উধাহরন চার্ট;
নিচের ডেইলি চার্টে ২টি লেভেল মার্ক করা আছে। আপনি লক্ষ্য করেন একটি লেভেল প্রাইসের উপরে অন্যটি প্রাইসের নিচে।এই দুটি লেভেল মার্কেটের মধ্যে অনেক পরিস্কার সাপোর্ট ও রেজিস্টান্স লেভেল, তবে প্রাইস কিন্তু মুভ করতে যে কোন দিকে উপরে বা নিচে। এই লেভেল ২টি কিন্তু কী সাপোর্ট এবং রেজিস্টান্স এরিয়া। ডেইলি চার্টে লেভেল মার্ক করার পর আমারা চলে যাবো ৪ঘণ্টার চার্টে বা ইন্টার-ডে চার্টে আত্মবিশ্বাসের সাথে ট্রেড করবো সেই কী লেভেলগুলোতে যতদিন না পর্যন্ত ট্রেড সিগন্যাল পাই সেই ডেইলি কী লেভেল গুলোতে।

নিচের উদাহরণ চার্টটি ও উপরের চার্টটি একই পেয়ার ও একই লেভেল মার্ক করা আছে, কিন্তু পার্থক্য হল টাইম ফ্রেমে, নিচেরটি ৪ঘন্টার টাইম ফ্রেম ।
এই  চার্টটি হাইলাইট কী  লেভেল যা  আমাদেরকে দেখাচ্ছে যে, ডেইলি চার্ট থেকে ৪ঘন্টার চার্টে  এই লেভেল গুলো বেশী রিস্কপেক্ট পাচ্ছে । ঠিক এই লেভেল গুলো থেকে যদি আপনি কোন সিগন্যাল পান তবে তার প্রফিট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে ।
কারণ আপনি যেই লেভেল গুলোতে ট্রেড করছেন সেই লেভেল গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ । 
আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করুণ; নো মেন্স ল্যান্ড; এর মানে হল এই জায়গায় কোন গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া নেই, তাই এই জায়গায় সিগন্যাল পাইলে বা ট্রেড করলে  লস হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে, আর এই এরিয়া গুলোকে বিপদজনক এরিয়া হিসাবে ধরা হয় ।
গুরুত্বপূর্ণ নোট;  সুতরাং আপনাদেরকে  সুইং হাই সুইং লো,  কী সাপোর্ট ও রেসিস্টান্স লেভেল, কী সিগন্যাল ইত্যাদি বিবেচনা করে ট্রেড করতে হবে ।

এই পদ্ধতিটি আপনি ইন্টার-ডে টাইমফ্রেমে ট্রেড করার জন্য ব্যাবহার করতে পারবেন। যেমন; ৮,৬,৪,২,১ ঘণ্টায় বা এর থেকে আরো কম টাইমফ্রেমে।